প্রথম আলো অনুসারে, কক্সবাজারে অবৈধ হোটেল‑রিসোর্ট উচ্ছেদে বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনী অংশগ্রহণ করেছে।

অভিযানের প্রথম দিনে, কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় একটি চারতলা রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রিসোর্টটি মালিক শহিদুল হকের দাবি অনুযায়ী প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছিল এবং এতে নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয়‑চতুর্থ তলায় পর্যটকদের জন্য কক্ষ প্রস্তুত করা ছিল। কউক কর্তৃক চারবার নোটিশের পরেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবশেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অঞ্চলে প্রায় ২০০টি রিসোর্ট‑কটেজ‑রেস্তোরাঁ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে, যার বেশিরভাগই কাঠ‑বাঁশের নির্মাণ এবং কোনো অনুমোদন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১,৭০০টির বেশি নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, তবু আড়াই হাজারের কাছাকাছি অবৈধ কাঠামো তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ইসিএ (প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা) ও পৌরসভার নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে রিসোর্ট‑কটেজ নির্মাণ নিষিদ্ধ, ফলে কউকের অনুমোদন ব্যতীত গড়ে ওঠা বহু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা উল্লেখ করেন, মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে; এর মধ্যে ১৪টি রিসোর্টে জরিমানা আর দুটি রিসোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, অবৈধ হোটেল‑রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনতে সমিতি সমর্থন করে, কারণ টুপটাপ রিসোর্টে আগুনে ১০টি পর্যটকের মৃত্যু কক্সবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

এই তথ্যগুলো প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের (একাত্তর টিভি, চ্যানেল ২৪, আজকের পত্রিকা) একই ঘটনায় প্রতিবেদনকে সমর্থন করে।