চ্যানেল আই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের স্থলপথে পণ্য পরিবহনে ক্রমেই বিঘ্ন বেড়েছে। প্রতিবেশী পাকিস্তান, ইরাক ও তুরস্কের সীমান্তে চলাচলে বিধিনিষেধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য আরও চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও আকাশপথে অবরোধের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত ২৩ অক্টোবর সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাসপিয়ান পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বিঘ্নের কারণে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের মোট ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে স্থলপথে পণ্য পরিবহন সচল রাখার ওপর নির্ভরতা বাড়লেও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিধিনিষেধ সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
পাকিস্তান সাময়িকভাবে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্ত ক্রসিংয়ে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বর্তমানে এসব পথে শুধু ইরানি গ্যাসবাহী ট্যাংকার এবং পচনশীল ফল ও শাকসবজির চালান পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ইসলামাবাদ নিরাপত্তার যুক্তি এবং আন্তসীমান্ত চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে।
ইরাকের চাজাবেহ ও আল-শাইবের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সরাসরি নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ মাদক ও জাল মুদ্রা পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে। এছাড়া, ইরানের সঙ্গে চালু থাকা সীমান্ত ক্রসিংয়ের সংখ্যা আরও কমাতে ইরাকি সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চাপ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, যদিও এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরান-তুরস্ক সীমান্তের বাজরগান ক্রসিংয়েও পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপের সঙ্গে ইরানের স্থলবাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে পণ্যবাহী ট্রাককে সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তুরস্ক প্রতিদিন ইরানি ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০টির মধ্যে সীমিত রেখেছে, যদিও এই সীমান্ত অবকাঠামোর সম্ভাব্য সক্ষমতা দৈনিক প্রায় এক হাজার ট্রাক। ফলে সীমান্তে যানজট ও পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ইরানি ব্যবসায়ীদের সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরানের সঙ্গে তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত চালু থাকলেও এসব পথ দিয়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পরিবহন সক্ষমতার ঘাটতি এবং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা বিকল্প পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে পরিচিত আলী রেজাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে তেহরান বাধ্য হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।






