প্রথম আলো অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গত বুধবার নতুন আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক সামরিক নীতি ঘোষণা করেছে। এই নীতির অধীনে, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুমকি দিয়েছে যে, যদি কোনো দেশ আক্রমণ করে তবে তারা শুধু প্রতিশোধই নয়, বরং আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালাবে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, "আগে আমাদের প্রতিরক্ষানীতি ছিল আত্মরক্ষামূলক। এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাবও দেব, আবার আক্রমণও চালাব।" তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ হয়েছে, যদিও মোট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
মোহেবি উল্লেখ করেন যে, ইরানি বাহিনী "ফাদার অব অল বম্বস" বা "সব বোমার জনক" নামের নতুন অস্ত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম আলোতে এই অস্ত্রের নাম এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। আলোকিত বাংলাদেশে একই অস্ত্রকে "Mother of all bombs" বলা হয়েছে, যা নামের ভিন্নতা নির্দেশ করে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ছে
প্রথম আলো অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলো অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল। হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইন আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার অতিক্রম করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও নীতি
আলোকিত বাংলাদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী USS George Washington কে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করেছে, যাতে সম্ভাব্য আক্রমণের ক্ষেত্রে দ্রুত সামরিক অভিযান চালানো যায়। একই সূত্রে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আক্রমণ শুরু করতে পারে।
প্রথম আলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র এখন আর তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে না। শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে পারে।" এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে তেহরানকে, অন্যথায় শান্তিচুক্তি কঠিন হবে।
সৌদি আরবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া
প্রথম আলো অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থানরত জরুরি দায়িত্বে নেই এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থান
প্রথম আলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন রোধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইরানকে উৎখাত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
উপরোক্ত তথ্যগুলো প্রথম আলো ও আলোকিত বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে। উভয় সূত্রে ইরানের নতুন সামরিক নীতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও নীতি, এবং সৌদি আরবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে।





