ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতীপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহে এক নারীকে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে শরীরে শুকনো মরিচের গুঁড়া মাখানো হয়। এই ঘটনার প্রধান আসামি আন্না খাতুন, ৩৯ বছর বয়সী, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, আজ শনিবার দুপুরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

আজকের পত্রিকা অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্না খাতুন এবং কয়েকজন সহযোদ্ধা নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে আন্না খাতুন তার চুল কেটে দেন এবং পরে তার শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে নির্যাতন করা হয়। ভুক্তভোগীর ছেলেও মাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনার পর তার স্বামীকে জানান এবং একই রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্না খাতুনের সঙ্গে দুই মেয়ে ও এক ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং চুল কাটার জন্য ব্যাগ থেকে কাঁচি বের করে ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর চিৎকার শোনার পর পরিবার তাকে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সমকালের তথ্য অনুযায়ী, মোট পাঁচজনকে এই ঘটনার জন্য আসামি করা হয়েছে।

প্রথম আলোতে ঘটনাটিকে একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর বয়স ৪০ বছর বলা হয়েছে, যা আজকের পত্রিকায় উল্লেখ নেই। এছাড়া, প্রথম আলোতে ভুক্তভোগীর স্বামীকে ‘ইজিবাইক চালান’ এবং ছেলেকে ‘সেলুনে কাজ করেন’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে; এই সামাজিক তথ্য মূল সূত্রে নেই।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ এবং সদর থানা পুলিশের দলগুলো আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আন্না খাতুনকে স্বয়ং গোপন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজও চলমান।

এই তথ্যগুলো আজকের পত্রিকা, সমকাল, প্রথম আলো এবং ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।