যুক্তরাষ্ট্রের একটি মরিচাধরা (সন্দেহজনক) যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে মিডল ইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে।

মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের গর্বিত সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দিয়েছে। ট্রাম্প ও মার্কিন নেতৃত্ব এই বাহিনীকে নিজেদের ক্ষমতার উৎস হিসেবে বিশ্ব ও অঞ্চলকে ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহার করতেন; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বাহিনী আর পারস্য উপসাগর কিংবা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি আসার সক্ষমতা রাখে না।

ইরানি সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প কেবল স্বপ্নেই তার সামরিক সদস্য ও বাহিনীকে পুনরায় পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেখতে পারেন এবং এই ইচ্ছা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে কবরস্থানে চলে যাবে।

এ খবরের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ইনকিলাব। তারা জানায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সামরিক বা যুদ্ধজাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই কঠোর বার্তা এসেছে। ইরানি বাহিনী নিজেদের জলসীমা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে—এমন ধারণাও পাওয়া যায়।

বাসস জানায়, কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি শনিবার বলেছেন, ট্রাম্পকে এ স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলার হুমকি বাড়তে থাকার মধ্যে এ বক্তব্য এসেছে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে—এ সম্ভাবনা ‘একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না’।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আবদুল্লাহি বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।’ তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্য উপসাগরে প্রবেশের দৃশ্য স্বপ্নেই দেখতে হবে; সেই স্বপ্ন নিয়েই তাকে কবরে যেতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনী কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে। প্রণালিটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং পারস্য উপসাগরে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। ইরান প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করছে; ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, অবৈধ পথ দিয়ে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। গার্ডস জানায়, কৌশলগত জলপথটিতে মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা দুটি সুপারট্যাংকারের মধ্যে একটিতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রয়েছে। বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়েছে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।