আজকের পত্রিকা জানায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরান ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যাতে এই দেশগুলোর জাহাজ নৌ অবরোধের মধ্যে অবাধে চলাচল করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম এই তথ্য ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) জানান, এবং যুক্তরাষ্ট্রও এই জাহাজগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।

শুল্ক ও ফি ব্যবস্থা

ইরানি আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন যে, ভারত থেকে ওষুধ ও চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তবে ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি সংগ্রহ করা হচ্ছে, কাতারের জাহাজকে কোনো শুল্ক দিতে হচ্ছে না। ইরাকের জাহাজের ফি নেওয়া হচ্ছে কি না তা স্পষ্ট করা হয়নি।

অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষক রুজবেহ পারসি বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরেও ইরানের মূল লক্ষ্য হল প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আদান‑প্রদানের পথ বজায় রাখা। অস্ট্রিয়ার সাবেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন করতে পারে, কারণ চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ %।

গত অক্টোবর মাসে হরমুজের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে গড়ে প্রতিদিন ১.২৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়; এর মধ্যে প্রায় ৪২ % চীনে এবং ১৩ % ভারতে যায়।

ইউ‑ইস্রায়েল আক্রমণে ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি

ঢাকা টাইমসের রিপোর্টে ইরানের এক সংসদ সদস্যের সাক্ষাৎকার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন আক্রমণ চালায়, তবে ইরান ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার অতিক্রম করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, হরমুজে জাহাজের ‘জাতীয়তা’ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে—ধ্বজা, মালিকানা নাকি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান—এ বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।

এই তথ্যগুলো আজকের পত্রিকা এবং ঢাকা টাইমস উভয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।