রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইচরীউপজেলায় সাজেক‑বাঘাইহাট রোডে চলমান রোড ব্লকেডের সময় পর্যটক কনভয়কে গুলিবর্ষা করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের মতে, গুলিবর্ষা ঘটার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের ছয়জন আহত হন।
রাঙ্গামতি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ মুহাম্মদ আবদুর রাকিব (Dhaka Tribune) বৃহস্পতিবার প্রাতঃ ৯ টায় কনভয়কে নিরাপত্তা সঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানান। কনভয় উজোবাজারে পৌঁছানোর পর প্রায় ১০ টায় প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়; প্রতিবাদকারীরা ইট‑পাথর নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা কর্মীদের ছয়জনকে আহত করেন। পরে নিরাপত্তা কর্মীরা প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে কনভয়কে অগ্রসর করতে দেন।
ইন্টেলিজেন্স সূত্র অনুযায়ী, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF) সংযুক্ত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কনভয়কে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষা চালায়। নিরাপত্তা কর্মীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গুলিবর্ষা চালিয়ে যায়। গুলিবর্ষা প্রায় ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত চলেছে এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে (Dhaka Tribune)।
মহিন্দ্রা চালক মো. জাসিম উদ্দিন (Dhaka Tribune) জানান, কনভয় উজোবাজারে পৌঁছানোর পর ৪০ মিনিটের জন্য আটকে থাকে; নিরাপত্তা কর্মীরা ব্যাটন ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে দেয় এবং কনভয়কে চালিয়ে যায়। তিনি ১২:৪০ টায় খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর কথা জানান।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠন সম্পাদক রাহুল চকমা জন (Dhaka Tribune) উল্লেখ করেন, প্রায় ৩,০০০ পর্যটক সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফিরে গেছেন।
ডেইলি অবজার্ভার (Daily Observer) একই ঘটনার ওপর ভিন্ন তথ্যও দেয়। তাদের মতে, কনভয় প্রাতঃ ৮:৩০ টায় বেরিয়ে যায় এবং গুলিবর্ষা প্রায় দুই ঘন্টা স্থায়ী থাকে; নিরাপত্তা কর্মীদের ছয়জন আহত হয়। এছাড়া, ডেইলি অবজার্ভার উল্লেখ করে যে, সুপারিনটেনডেন্ট রাকিবের প্রেস কনফারেন্স সময় ৩ টা ছিল, যেখানে ঢাকা ট্রিবিউনে তা ২ টা উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজেক গাওনো অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ১১ অক্টোবর থেকে রোড ব্লকেড শুরু করে, ১৬-২১ অক্টোবর দুর্গা পূজা উপলক্ষে সাময়িকভাবে বন্ধ করে, এবং এরপর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করেছিল। ব্লকেডের ফলে ২,৯৩৩ (Dhaka Tribune) পর্যটক সাজেকে আটকে যায়। ব্লকেড পুনরায় শুরু হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবি করে তিনটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্লকেড প্রত্যাহার না করার কথা জানায়।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্য চাটগাঁ জিএসএস-সান্তু লার্মা (Parbatya Chattagram Jana‑Samhati Samiti) গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি এবং তাদের দ্বারা হুমকি ও জবরদস্তি করার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে (Dhaka Tribune)।
সাজেক রোড ব্লকেডের বর্তমান অবস্থা ও পর্যটক নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্যের জন্য ঢাকা ট্রিবিউনের সূত্র ও ডেইলি অবজার্ভারের রিপোর্ট উভয়ই উল্লেখ করা হয়েছে।






