গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গার্মেন্টস কর্মী (২০) এবং তার স্বামীকে নিয়ে ঘটিত এক নৃশংস অপরাধের তথ্য ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুসারে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে পাশের ঘরে বাঁধে রেখে, দুই নামযুক্ত ও দুজন অজ্ঞাত অভিযুক্তের হাতে গণধর্ষণের শিকার হন।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট (বা কিছু সূত্রে নয়নপুর) এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং স্থানীয় ডিবিএল গ্রুপের গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা ছয় মাস ধরে ওই বাড়িতে থাকায় সাম্প্রতিক চুরির কারণে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে বাড়ি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছিলেন।

১২ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ফারুক (৩২) এবং নয়ন (১৯) স্বামীর ডাকে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে এক ঘরে আটকে রাখেন। একই সময়ে দুই অজ্ঞাত সহযোগীও বাড়িতে ঢুকে, স্বামীকে মারধর করে। পরে নয়ন ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে, তাকে পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত টিনশেডের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ফারুক ও দুই অজ্ঞাত সহযোগীও ধারাবাহিকভাবে তাকে ধর্ষণ করেন। নারীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত ও তদন্ত

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের মতে, অভিযুক্তদের মধ্যে সিলেটের কোতোয়ালি থানার মাজারখানা এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফারুক (৩২) এবং শ্রীপুরের ধনুয়া গ্রামের মৃত সুলতান মুন্সির ছেলে নয়ন (১৯) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া দুজন অজ্ঞাতকে আরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায়, তবে সেই সময়ে তারা ধরা পড়েনি।

ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্যের পরীক্ষা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হয়েছে। তিনি ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এই তথ্যগুলো ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, বাংলা ট্রিবিউন এবং ইনডিপেনডেন্ট টিভি সহ বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে; যেখানে হানু মার্কেট ও নয়নপুর এলাকার অবস্থান সম্পর্কে কিছু পার্থক্য রয়েছে, তা উল্লিখিত হয়েছে।