নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাবেক পুলিশ কনস্টেবল আবুল কালামকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় গুরুতর আহত আবুল কালামকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে শারীরিক অবস্থা বদতর হলে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়।

প্রতিবাদের ফলাফলে হামলা

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে উত্তর মাসাবো এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি শাহাদাত ও এমদাদুল নামে স্থানীয় দুজনের মাদক কারবারের অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল বিভিন্ন সময় আবুল কালামকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শাহজালাল ফোন করে আবুল কালামকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। তারপর তাকে উত্তর মাসাবোর একটি নির্জন বিলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই শাহজালালসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল উপস্থিত ছিল। তারা আবুল কালামকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযুক্তরা ফরার, পুলিশের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহজালাল, শাহাদাত ও এমদাদুলসহ অন্যরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেছেন, "এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

চ্যানেল আই-এর প্রতিবেদনে আহতকে 'পুলিশ সদস্য' বলা হয়েছে এবং বয়স ৩৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা তাঁকে 'সাবেক পুলিশ কনস্টেবল' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই পার্থক্য যাচাই করা বাকি।