চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি দ্রুতগতির লরি চাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক আহত হয়েছেন বলে চ্যানেল ২৪ জানিয়েছে। চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে ঘটনার সময় এবং আহত সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা সোমবার রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় ঘটেছে। ঢাকা টাইমস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় ঘটনা ঘটে। বাংলা ট্রিবিউন বলেছে, সোমবার রাত ১টা ১০ মিনিটে ছোট কুমিরা এলাকায় রয়েল সিমেন্ট গেটের সামনে দুর্ঘটনা ঘটেছে। চ্যানেল আই-এর রিপোর্টে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা আছে।

নিহত সংখ্যা সব রিপোর্টে পাঁচজন বলে উল্লেখ করা আছে। প্রথম আলো এবং বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, একজন পুরুষ এবং একজন শিশু রয়েছেন। ঢাকা টাইমস নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনার ছয় বছর বয়সী শিশু ইব্রাহিম এবং স্বপ্না নামের একটি নারীর পরিচয় পাওয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত সংখ্যা নিয়ে রিপোর্টগুলো ভিন্ন। চ্যানেল ২৪ 'বেশ কয়েকজন' আহত বলেছে। প্রথম আলো কমপক্ষে চারজন আহত বলেছে, যাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা টাইমস চারজন আহত বলেছে। বাংলা ট্রিবিউন কমপক্ষে আটজন আহত বলেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চ্যানেল আই চারজন গুরুতর আহত বলেছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাপলা পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনা যাচ্ছিল। কুমিরা এলাকায় বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীরা সড়কের পাশে কাঠের গুঁড়িতে বসে অপেক্ষা করছিল। তখন একটি কনটেইনারবাহী লরি বেপরোয়া গতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দিয়েছে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস ও লরিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।