আজকের পত্রিকা অনুসারে, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, সাজেক সড়ক অবরোধের পাঁচটি মূল দাবির মধ্যে প্রায় চারটি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, অবশিষ্ট একটি দাবি দুই‑তিন দিনের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা হলে অবরোধ তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়া হবে এবং সড়ক পুনরায় চালু হবে।

ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ি সমস্যাগুলোকে আন্তরিকভাবে দেখছেন এবং হ্রদ থেকে সমতল পর্যন্ত সমাধানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন; সাজেক ইস্যুতেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, যা অনুসরণ করা হচ্ছে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান একই ব্রিফিংয়ে জানান, অবরোধকারীদের সঙ্গে পলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই শান্তি চায়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখনও একটি পয়েন্ট অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা শীঘ্রই সমাধান হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, ডিজিএফআই শাখা অধিনায়ক কর্নেল মাহফুজুল বারী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মোর্তোজা আলী খান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রকিব।

নিরাপত্তা সমন্বয় সভা ও অবরোধের প্রভাব

সাজেক সড়ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা পরিষদ, সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক মালিকদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

শনি সকাল থেকে জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়েছে; অবরোধের ফলে দীর্ঘ দূরত্বের সব ধরনের যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

প্রতিবাদ ও আলটিমেটাম

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালক ও বাসিন্দারা মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবরোধ তোলার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

বার্তা২৪-এর প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ওই সংস্থা উল্লেখ করেছে যে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি সমঝোতা হয়েছে এবং অবরোধ শীঘ্রই অনির্দিষ্টকালের জন্য তোলা হবে। মূল সূত্র (আজকের পত্রিকা) অনুসারে দাবি সমঝোতার সংখ্যা “প্রায় চারটি” বলা হয়েছে, যা সংখ্যার পার্থক্যকে নির্দেশ করে। উভয় প্রতিবেদনের তথ্যকে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সব তথ্যের ভিত্তিতে, অবরোধের সমাধান ও সড়ক পুনরায় খোলার প্রত্যাশা উভয় পক্ষের আলোচনার ফলস্বরূপ দুই‑তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।