প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর ১৯২৬ সালে বার্লিনের 'উফা-পালাস্ট আম জোলোজিশেন গার্টেন' প্রেক্ষাগৃহে ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম মুরনাউ পরিচালিত নির্বাক চলচ্চিত্র 'ফাউস্ট: আইনে ডয়চে ফোকজাগে' (ফাউস্ট: একটি জার্মান লোককথা) প্রদর্শিত হয়েছিল। জার্মান এক্সপ্রেশনিজম শৈলীর এই চলচ্চিত্রে আলো-ছায়ার কিয়ারোস্কুরো পদ্ধতিতে ফাউস্টের আত্মসংগ্রামকে দৃশ্যমান করা হয়েছিল।

লোককথা থেকে গ্যোটের মহাকাব্য

ফাউস্টের গল্পের শিকড় ষোড়শ শতাব্দীর জার্মান লোককথায়, যা পরবর্তীতে ক্রিস্টোফার মার্লোর 'ডক্টর ফস্টাস'-এ সাহিত্যিক রূপ পেয়েছিল। কিন্তু ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে প্রায় ছয় দশক সময় ব্যয় করে ১৮০৮ সালে প্রথম অংশ এবং ১৮৩২ সালে দ্বিতীয় অংশ প্রকাশ করেন। গ্যোটের হাতে ফাউস্ট শুধু শয়তানের কাছে আত্মা বিক্রি করা একজন পণ্ডিত নন, বরং মানুষের অতৃপ্তি, সীমা ভাঙার আকাঙ্ক্ষা এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের জটিল প্রতিরূপ হয়ে ওঠেন।

মুরনাউর দৃশ্যভাষা ও গ্রেটশেনের траগেডি

মুরনাউর চলচ্চিত্রে শব্দ ছাড়াই ক্যামেরার ভাষা, স্কেল মডেল এবং ডাবল এক্সপোজারের মাধ্যমে মেফিস্টোফিলিসের বিশাল কালো অবয়ব এবং মহামারির দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল। চলচ্চিত্রের সবচেয়ে গভীর অধ্যায় গ্রেটশেনের জীবন—যিনি ফাউস্টের আকাঙ্ক্ষার মূল্য নিজের জীবন, সম্মান এবং সন্তান দিয়ে চुकান। এখানেই গল্প শয়তানের চুক্তি থেকে মানুষের আকাঙ্ক্ষার নৈতিক মূল্যেবোধে পরিণত হয়।

প্রযুক্তির যুগে নতুন ফাউস্টীয় চুক্তি

শতবর্ষ পর আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেনেটিক প্রযুক্তি এবং মহাকাশ অভিযানের যুগে মানুষের আকাঙ্ক্ষার শব্দগুলো বদলেনি—'আরও জ্ঞান, আরও ক্ষমতা, আরও সম্পদ, আরও দীর্ঘ জীবন'। প্রথম আলোর মতে, আজকের প্রযুক্তি-শাসিত বিশ্বে আমরা যখন সুবিধার বিনিময়ে নিজস্ব মানবিক বোধ এবং গোপনীয়তা বাজি রাখি, তখন সেটিই নতুন রূপের 'ফাউস্টীয় চুক্তি'। ফাউস্ট কেবল অতীতের চরিত্র নয়, সে আমাদের প্রতিনিধি—যে সব পেয়েও বলে, 'আরও চাই!'