প্রথম আলো অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭০০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবারগুলোর বেশিরভাগই মুসলিম। ভিডিওতে মসজিদের সামনে গুঁড়িয়ে দেওয়া কাঠামো দেখা যায়।
মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে এবং উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হয়েছে। দিল্লি ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ (L&DO) মসজিদের জমিকে সরকারি সম্পত্তি দাবি করে, অননুমোদিত দখলকে অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে এবং কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগকে কার্যকরী নির্দেশ দিয়েছে। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নির্দেশে ৭ অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতি ও 현장 ভিডিও
তুঘলক রোড থানা পুলিশ কোনো ধ্বংসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ‘সিয়াসত ডটকম’ অনুসারে মসজিদ বা নিকটবর্তী বাসস্থান ভেঙে ফেলা হয়নি বলে দাবি করেছে। তবে 현장 ভিডিওতে মসজিদের সামনে ইটের স্তূপ ও ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। পুলিশ এক কর্মকর্তা বলছেন, উচ্ছেদ নয়, বরং ১৫‑১৬ কিলোমিটার দূরে মুন্ডকা এলাকায় বিকল্প বাসস্থান ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আসামের উচ্ছেদ অভিযান
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামের নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপে ১১০০ টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং দশটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। এই অভিযান ১৭ ও ১৮ অক্টোবর চালানো হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য জানায়। প্রথম আলোতে উল্লেখ আছে যে, হিমন্ত বিশ্বশর্মা নেতৃত্বাধীন আসামের সরকার এক সপ্তাহে ৬৩৮ হেক্টর বেশি জমি মুক্ত করে এক হাজারের বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে; উভয় সূত্রই মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর প্রভাব উল্লেখ করেছে।
প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
মসজিদের ইমাম জানান, ছয় দিনের মধ্যে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডে আবেদন করার পরও কোনো সাড়া পাননি। বিদ্যুৎ ও পানিসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও কিছু মুসলিম সেখানে নামাজ আদায় করে ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই উচ্ছেদকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বলে প্রতিবাদ জানিয়ে আছে।
চ্যানেল আইর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শতবর্ষী মসজিদ উচ্ছেদের প্রক্রিয়া দিল্লিতে শুরু হয়েছে, যা মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ঘটনাগুলি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক নীতি চালু হওয়ার উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।






