বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, সন্ধ্যার ব্যস্ততা কমেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। টিএসসি এলাকায় পরপর দুটি বিকট শব্দ শোনা যায়, পরে একই শব্দ দেখা যায় প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর ও মুক্তি-গণতন্ত্র তোরণের সামনে। কয়েকজনকে শিক্ষার্থীরা আটক করে।

৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনেও বিস্ফোরণ হয়। আগের রাতে যাত্রাবাড়ীতে ১টার পর তিন থেকে চারটি বিস্ফোরণ ঘটে, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে ফটকের সামনে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত, অভিযান ও শনাক্তের চেষ্টা চালানোর কথা জানায়। তবে অপরাধীদের পরিচয় ও আটক ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশের মতে, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে: আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায়। খিলগাঁওয়ে ৭:৫৫ পিএম-এ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতরে বিস্ফোরণ হয়। আদাবরে ৯টা নাগাদ দুটি বিস্ফোরণ ঘটে, মোটরসাইকেল থেকে নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। শাহবাগে পুলিশ ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ হয়, পরে জুলাই চত্বরেও বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানবন্দরে উড়ালসড়ক থেকে দুটি ককটেল ছোড়া হয়। কালশী মোড়ে সিসিটিভি ফুটেজে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল দেখা যায়। মিরপুরে তদন্ত চলমান।

৫ নভেম্বর রাতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে, তবে কোনো আটক হয়নি। ২ নভেম্বর সোবহানবাগে ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের কাছেও বিস্ফোরণ ঘটে। ৭ নভেম্বর রাতে বনানী সেতু ভবনে ককটেল নিক্ষেপে গার্ড রুমের কাচ ভেঙে যায়, পুলিশ অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। একই রাতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর।

৩০ অক্টোবর কলাবাগানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন। ১০টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। ২৩ অক্টোবর পুরোনো রমনা থানার সামনে বিস্ফোরণে সিসিটিভি বিশ্লেষণে ৩০ অক্টোবর দুজনকে গ্রেফতার করে চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

পূর্ববর্তী তদন্তে ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ের সামনে রেজাউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়, যাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ককটেল নিক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানা যায়।

৮ নভেম্বর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুনের প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য রয়েছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও পুলিশ মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে।

আকতার হোসেন বলেন, ককটেল তৈরির উপাদানের উৎস পর্যবেক্ষণ চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিকে যথাযথ প্রমাণ ছাড়া নিক্ষেপকারী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।