সমকালের মতামত পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক মো. ওবায়দুল্লাহ এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান ক্ষমতা সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন।

ক্ষমতার কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এআই ইনডেক্স ২০২৬' অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তৈরি উল্লেখযোগ্য প্রায় সব এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের। বেসরকারি এআই বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র ২৮ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার এবং চীন এক হাজার ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৪২৭টি ডেটা সেন্টার রয়েছে, যা দ্বিতীয় স্থানের দেশের চেয়ে দশ গুণ বেশি। বিশ্বে কম্পিউটিং সক্ষমতা ২০২২ সাল থেকে বছরে গড়ে ৩.৩ গুণ হারে বাড়ছে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় চিপের ৬০ শতাংশের বেশি একক কোম্পানি এনভিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

প্যাক্স সিলিকা এবং বাংলাদেশের অনুপস্থিতি

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আয়োজনে 'প্যাক্স সিলিকা' ঘোষণাপত্রে সই করেন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও অস্ট্রেলিয়া। লক্ষ্য ছিল খনিজ, বিদ্যুৎ, সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড অবকাঠামো ও উন্নত এআই মডেলের সরবরাহ 'বিশ্বস্ত' দেশগুলোর হাতে রাখা। পরে আরব আমিরাতসহ অন্যরা যোগ দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতও যুক্ত হয়েছে। আট মাসে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ৭ থেকে ২৫ হয়ে উঠেছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে নেই—আমন্ত্রণও আসেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লির 'এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এ ৮৮টির বেশি দেশ ও সংস্থা 'নয়াদিল্লি ঘোষণা' অনুমোদন করেছে, সেখানে ও বাংলাদেশ অনুপস্থিত ছিল।

চিপ কূটনীতির হাতিয়ার

বাইডেন প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে 'এআই ডিফিউশন' কাঠামো চালু করে দেশগুলোকে স্তরে ভাগ করে চিপ বণ্টন ঠিক করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন মে মাসে তা বাতিল করলেও ডিসেম্বরে শর্তসাপেক্ষে চীনে এনভিডিয়ার এইচ২০০ চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক ও পরিমাণগত সীমাসহ তা আনুষ্ঠানিক বিধি হয়েছে। চীন দেশীয় কোম্পানিগুলকে মার্কিন চিপের বদলে দেশীয় বিকল্প ব্যবহার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর ৩১ মে ঘোষণা করে, চীনা মালিকানাধীন কোম্পানি বিদেশে থাকলেও এ চিপ কিনতে পারবে না। এনভিডিয়া নিজে স্বীকার করেছে চীনের বিশাল ডেটা সেন্টার বাজারে তারা কার্যত প্রবেশাধিকার হারিয়েছে।

ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের করণীয়

লেখক মনে করেন, বাংলাদেশকে কম্পিউটিং সক্ষমতায় প্রবেশাধিকারের প্রশ্নকে পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে নিতে হবে। একই অবস্থানে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধা দরকার। ১৭ কোটির বেশি মানুষের ভাষা, স্বাস্থ্য রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন ও চলাচলের তথ্য জাতীয় সম্পদ। 'জাতীয় এআই নীতিমালা ২০২৬-৩০'-এর খসড়া ও 'ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর মাধ্যমে কোন শর্তে ডেটা দেশের বাইরে যাবে তা এখনই ঠিক করতে হবে, নইলে ডেটা বিনামূল্যে বিদেশে যাবে এবং তা দিয়ে তৈরি সেবা বাংলাদেশকে চড়া দামে কিনতে হবে।