সমকালের আজকের সম্পাদকীয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে একটি টাইম বোমা ও দুটি বোতল পেট্রোল উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলা হয়েছে। গত রবিবার মধ্যরাতে আখড়াবাড়ির অভ্যন্তরে বোমা থাকার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ এবং সোমবার ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তৎক্ষণেটি নিষ্ক্রিয় করেছে।

শনিবার ছিল লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবস। এই উপলক্ষে আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা আয়োজিত ছিল, যেখানে কয়েক হাজার বাউল, সাধক ও লালনভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, বোমা বিস্ফোরিত হলে সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি বহু প্রাণহানি ঘটতে পারত।

এ প্রসঙ্গে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে এবং ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার দুটি ঘটনা স্মরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই দুটি বিয়োগান্তক ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আরও অনেকজন আহত হয়েছিলেন।

সম্পাদকীয়ে গত প্রায় আড়াই বৎসর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও অনুষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার স্রোত হিসেবে একটি চিহ্নিত উগ্রবাদী মহলকে নির্দেশ করা হয়েছে। এই মহল বাউল আখড়া ও সংগীত আসরকে অনৈসলামিক বলে অভিযোগ আনে হামলা চালিয়েছে, বাউল শিল্পী ও ভক্তদের মারধর করা ও মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অতীতের কোনো সরকারই এই উগ্রবাদী মহলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ২৭ বছর বিত जाने ১৯৯৯ সালের উদীচী বোমা হামলার বিচার হয়নি। রমনা বোমা হামলার বিচার দীর্ঘ সময় পর একভাবে হলেও তাতে অনেকেই ন্যায়বিচার মেনে নেননি। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও গত সাত মাসে বিভিন্ন মাজার, আখড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সম্পাদকীয়ে সরকার থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, লালনের আখড়ায় টাইম বোমা পাওয়ার পর সম্বেদনশীলতা দেখাবে; যথাযথ তদন্ত-পূর্বক এই ঘটনার হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনিবার পাশাপাশি ইতোপূর্বে সংঘটিত সকল উগ্রবাদী সহিংসতার বিচার করা হবে।