ঘটনার বিবরণ
প্রথম আলো অনুসারে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানা এলাকায় ১৮ অক্টোবর বিকেল প্রায় ৩:৩০ টায় তিনটি খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যদের ওপর আক্রমণ ঘটেছে। এক পরিবারে ৪০ বছর বয়সী নারী ও তার ৫০ বছর বয়সী স্বামীকে শারীরিক হিংসা করা হয়, তাদের পোশাক ছিঁড়ে তুলি ও বেল পাতা খাওয়ানো হয় এবং শুদ্ধিকরণের নামে গরম পানি দিয়ে শাওয়ার করানো হয়। একই সময়ে, অপরাধীরা পরিবারকে দুর্গাপূজা মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে অঞ্জলি দিতে বাধ্য করে।
আক্রমণকারী দলটি বাড়ি থেকে প্রায় ২০,০০০ রুপি চুরি করে এবং ভুক্তভোগীদের পুলিশে অভিযোগ না করার হুমকি দেয়। পরের দিন ১৯ অক্টোবর আবার একই দল ফিরে এসে পরিবারকে আবার হুমকি দেয় এবং পুনরায় ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে বাধ্য করে। ২০ অক্টোবর পুরুষ সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত হুমকি জানিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা (দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে) জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির পাশে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর FIR দাখিল করা হয়, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীও জানান, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এখনও বাকি।
অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন
আজকের পত্রিকা অনুসারে, একই ঘটনা ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ঘটেছে এবং পরিবারগুলো ধর্ম ত্যাগে বাধ্য করার হুমকি পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, এই পরিবারগুলো প্রায় ৩০ বছর ধরে চন্দ্রকোনা এলাকায় বসবাস করছিল এবং প্রায় ১৮ মাস আগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে—এটি মূল সূত্রে উল্লেখ নেই এবং যাচাই প্রয়োজন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট নয়জন পরিবার সদস্যের ওপর আক্রমণ ও হুমকি জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরে বাড়িতে ফিরে দেয়।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে মূল ঘটনা সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিনটি খ্রিষ্টান পরিবারকে ধর্মীয় আচার বাধ্য করা, শুদ্ধিকরণের নামে গোসল করানো এবং গৃহভঙ্গের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির বাইরে চারজন পুলিশ সদস্যের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তারা পুনরায় হুমকি পেলে পুলিশকে জানাতে প্রস্তুত।






