অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং উপত্যকায় ১১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আগে জরিপ ও খনন কাজের জন্য উগেং‑কমকার এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রস্তুতির পরও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রকল্পের বিরুদ্ধে আপত্তি রয়ে গেছে এবং বিক্ষোভ, আন্দোলন চলছে।
১৪ অক্টোবর চারজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে সিয়াং গেকু এলাকায় স্থানীয় মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে।
আদিবাসী কৃষক ফোরামের (SIAFF) যুব শাখা সরকারী আলোচনার প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশঙ্কা করে যে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাদের বসতভিটা, জমি ও জীবিকার পথ সংকুচিত হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডু গত সেপ্টেম্বরের সফরে বিক্ষোভের দৃশ্য দেখেছেন; বিক্ষোভকারীরা এক বিধায়কের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। ৪ অক্টোবর নতুন সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু ৮ অক্টোবর আদিবাসী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকল্পের বিরোধিতা ২০১০ সালের কংগ্রেস শাসনকালের ঘটনাবলীর সঙ্গে যুক্ত, যেখানে সিয়াং পিপলস ফোরামের চেয়ারম্যান ওজিং তাসিং প্রকল্পের বিরোধিতা করতেন। বর্তমানে তাসিং মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।
চীন-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষিতে, ২০০২ সালে দু'দেশের মধ্যে সিয়াং নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য শেয়ার করার সমঝোতা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর চীন ইয়ারলুং সাংপো নদীর ভাটির দিকে ৬০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যা ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠাক্কর উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইনে ‘প্রথম ব্যবহারকারীর অধিকার’ প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা নেই এবং ভারতের উচিত চীনের সঙ্গে যৌথ প্রভাব মূল্যায়ন করা।
এই তথ্য প্রথম আলো থেকে প্রাপ্ত।




