বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও দাঙ্গার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসন নীতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ম্যাক্রোঁর যদি অভিবাসন বিষয়ে তার পরামর্শ মেনে নেন, তবে এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।

ট্রাম্প ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করলেও কড়া ভাষায় বলেছেন, "আমি অনেক আগেই তাকে বলেছিলাম, আপনি ফ্রান্সে একটি বড় ভুল করছেন। আপনি বিশ্বের সব স্থান থেকে মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন।" তিনি দাবি করেছেন, এই লাগামহীন প্রবেশের কারণে ফরাসি রাজধানী প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা কাম্য ছিল না। চ্যানেল আই, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, একাত্তর টিভি ও চ্যানেল ২৪-র প্রতিবেদনেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পুষ্টি করা হয়েছে।

সপ্তাহান্তে ব্যাপক দাঙ্গা, লুটপাট এবং বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর প্যারিস, লিল, নিসসহ বিভিন্ন শহরে স্থানীয়ভাবে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) ও গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। এছাড়া দেশটির ট্রেড অ্যান্ড রিটেইল ফেডারেশন জানিয়েছে, সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ সান্ধ্য আইনের পরিবর্তে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ জারি করেছে ফরাসি সরকার। আইনশৃঙ্খলা পুনর্দখলের বিষয়ে সংকল্প ব্যক্ত করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লোকোর্নু বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমার প্রতিশ্রুতি অটল। তবে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি খোলা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। (দ্রষ্টব্য: ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর নাম যাচাই করা প্রয়োজন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল।)

এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনও কিছুই এটিকে সমর্থন করে না, কোনও কিছুই এটির ব্যাখ্যা দেয় না এবং কোনও কিছুই এটিকে ক্ষমা করে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের যুক্তিসঙ্গত দাবি রয়েছে স্বীকার করলেও তিনি স্পষ্ট জানান, সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে সেসব দাবিকে মেলানো যাবে না। সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত অন্যান্য মাধ্যমে চ্যানেল আই ও চ্যানেল ২৪ উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। একাত্তর টিভি তাদের প্রতিবেদনে দাঙ্গার কারণ জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি বলে চিহ্নিত করেছে, যদিও বাংলা ট্রিবিউন বা অন্যান্য উৎসে এই কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এই বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।