ধাক্কা ট্রিবিউন অনুযায়ী, সৌদি আরব মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সরকারী বিবরণে নাম উল্লেখ করা হয়েছে নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আখতার হিসেবে, এবং মৃত্যুদণ্ডের কারণ হিসেবে ‘তাআজির’ শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মসজিদের নাম, ঘটনার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবাদী তথ্য ও কনসুলের নোট
একটি গোপনীয় কনসুলার স্মারকলিপি (১৮ অক্টোবর) অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি বন্দি তালিকায় উভয়ের নাম উপস্থিত ছিল, তবে তাদের অপরাধ ভিন্ন ছিল: নাজরুল ইসলামকে সাইবারক্রাইম আইনের অধীনে এবং সিতিকে ব্যভিচার অভিযোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তালিকায় কোনো মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ ছিল না। কনসুলের নোটে এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হয়নি এবং দুজনেরও কোনো আইনি সহায়তা চাওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের কনসুল জেদ্দা জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৃত্যুদণ্ডের তালিকায় অনুপস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকার ১৫ অক্টোবর (মৃত্যুদণ্ডের পরের দিন) একটি কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে তথ্য চেয়েছিল এবং ১৮ অক্টোবর জেদ্দায় আবার অনুসরণ করে। রাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই ঘটনাকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
পরিবারের বক্তব্য
নাজরুলের পরিবার বলছে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে সৌদিতে ক্লিনার হিসেবে কাজ করছিলেন; তার মা রাহিমা বেগমের মতে শেষ ফোন কল ১১ অক্টোবরের। সিতির পরিবার জানায় তিনি তাংগাইলের মির্জাপুর থেকে কাজের জন্য গিয়েছিলেন এবং কর্মস্থলের বিরোধের কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। উভয় পরিবারই মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে অগ্রিম কোনো জানানো পাননি এবং দেহের প্রত্যাবর্তন চাচ্ছেন।
সামাজিক মিডিয়ার ভুল তথ্য
কয়েকটি ফ্যাক্ট-চেক দল প্রকাশ করেছে যে, দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও হিসেবে প্রচারিত গ্রাফিক ভিডিও ২০১৫ সালের অন্য একটি সৌদি মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য, এবং দেহের বাংলাদেশে পৌঁছানোর দাবি করা ভিডিওও সম্পর্কহীন। জেদ্দা বিমানবন্দরের কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে দেহগুলো এখনও দেশে পৌঁছায়নি।
দৈনিক অবজারভারের আলাদা প্রতিবেদন
দৈনিক অবজারভারের রিপোর্টে রিয়াদে একটি আলাদা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্ট কর্মী মো. শাহেদ আহমেদ (৩৬) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়েছেন এবং তার দেহ ঢাকা পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। এই তথ্যটি মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে একই সময়ে প্রকাশিত হওয়ায় উল্লেখযোগ্য।
সৌদি আদালতের ১৩-জনের আপিল প্যানেল মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়েছে, তবে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা এখনও চূড়ান্ত রায় ও বিচার প্রক্রিয়ার নথি পাননি। এই তথ্যের ঘাটতি আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তুলেছে।






