ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুসারে, ৯ অক্টোবর রাতের দিকে খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম রূপসা (৪৩) রিকশায় পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন ছিনতাইকারীর দ্বারা বাধা পেয়ে, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনে নেওয়া হয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে দুই হাতের কবজির ওপর কুপি করে গুরুতর জখম করা হয়।

পরবর্তী সময়ে খুলনা থানা ও সোনাডাঙা থানার মোবাইল টিমের সহায়তায় তাকে প্রথমে সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়; বর্তমানে তিনি ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর, জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নি.) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, জেলা পুলিশ রাতের একা প্যাট্রোল নিষেধের নির্দেশ জারি করেছে।

গ্রেপ্তার

ইত্তেফাকের পাশাপাশি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসআরবি‑৬ (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) এবং স্পেশাল কোম্পানির একটি দল ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) খুলনা নগরীর দুটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মিরাজ ওরফে ‘স্পিকার মিরাজ’ (৩৯) এবং তার সহযোগী মো. ইব্রাহিম গাজী (৪২)কে গ্রেপ্তার করেছে। মিরাজকে হাজী মুহসিন রোডের ফারুক মিয়ার ছেলে এবং গাজীকে টুটপাড়া সরকারপাড়ার মৃত আকবর আলীর ছেলে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসআরবি‑৬ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ (ইত্তেফাক) ও আজকের পত্রিকা উভয়ই জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙা থানার কলাবাগান ও সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়েছে। মিরাজের বিরুদ্ধে কেএমপির আড়ংঘাটা, সদর থানায় চুরি‑ডাকাতির একাধিক মামলা এবং গাজীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই পুলিশ পরিদর্শককে কুপিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আজকের পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় চলছে।