টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) – জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই রয়েছে বলে জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদৎ স্বাধীনের মতে, বৈঠকে মিয়ানমারের অবনতি পরিস্থিতি এবং তার ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ‑জাপান সম্পর্কের ওপর জোর
বৈঠকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক‑আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকার ও বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
ইতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রতি বাংলাদেশের বিশেষ অনুভূতি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং তখন থেকে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাপান সফর এবং মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান‑বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও এই বিবরণগুলো প্রতিবেদন করেছে; বাংলা ট্রিবিউন, ইনডিপেনডেন্ট টিভি, বার্তা২৪ এবং দেশ রূপান্তর একই শীর্ষ বৈঠকের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রকাশ করেছে।
এই তথ্য বাসস অনুসারে।





