চ্যানেল আই অনুযায়ী, মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়েছে। নাঈম হাসান ও জাকের আলী অনিকের ব্যাটে সেই ধাক্কা কিছুটা সামাল দিয়েছে স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুতে নাঈম বোলিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন, ৪ উইকেট নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। এরপর তিনি ব্যাটেও অবদান রাখেন, ১৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। জাকের আলীকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ২৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন।
নাঈম বলেছেন, দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আসলে বল যখন হাতে নেই তখন বোলার, যখন ব্যাট হাতে নেই, তখন ব্যাটার। সবারই ব্যাটিং করতে হয়। দলের প্রয়োজনে যেটা করা দরকার, করার চেষ্টা করি।”
তিনি সাম্প্রতিক ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পর্যাপ্ত বোলিংয়ের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করেননি, বরং অধিনায়কের সিদ্ধান্তে আস্থা প্রকাশ করেন। “দলের জন্য যেটা ভালো, অধিনায়ক সেটাই করেন। মিরাজ ভাই আর তাইজুল ভাইয়ের উপর টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস বেশি। আমি যদি এরকম পারফর্ম করতে থাকি তাহলে আমাকেও বেশি বল করাবে। বিষয়টা আমার হাতে নেই। আমাকে যখন সুযোগ দেয়, চেষ্টা করি শতভাগ পরিশ্রম করতে।”
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে হোঁচট খাওয়ার পর, ৩৫ রানে ৫ উইকেট ও ৫৩ রানে ৬ উইকেটের বিপর্যয় ঘটেছে। নাঈম ও জাকেরের প্রতিরোধ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তিনি ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রতিদিন সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। যদি আমরা সেটা কাজে লাগাতে পারি, তাহলে দল ব্যাক করতে পারব।”
ড্রেসিংরুমে দ্রুত পাঁচ উইকেট হারানোর পর চাপ তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাঈম বলেন, “সতীর্থদের মধ্যে হতাশার চেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাসই বেশি ছিল। ড্রেসিংরুমে সবাই নরমাল ছিল। কারণ আমাদের বিশ্বাস আছে, কেউ না কেউ খেলাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
চতুর্থ দিনে তিনি ব্যাটে আরও বড় অবদান রাখতে চান, জাকেরের সাথে লম্বা জুটি গড়তে চান। “চেষ্টা করব যতবেশি রান করতে পারি। আমি আর জাকের যদি লম্বা খেলতে পারি, তাহলে যতবেশি রান করব, আমাদের দলের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে খুবই ভালো হবে।”
ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী, বলেন, “হাতের উইকেট কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়লে বাংলাদেশের সামনে জয়ের পথ তৈরি হবে। তবে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য ঠিক করে এগোতে চান না। যতবেশি রান করতে পারি, তত ভালো।”
বাংলাদেশ পোস্টে রিপোর্ট করা হয়েছে যে নাঈম কম বল করার সুযোগ পেলেও ৪ উইকেট নিয়ে দলের আস্থা বাড়িয়েছেন।






