বিবিসি বাংলা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসের শেষ সপ্তাহে টোকিও সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ ঘোষণায় 'বিগ-বি' উদ্যোগকে 'বিগ-বি ফর শেয়ারড প্রসপ্যারিটি' বা অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি উদ্যোগ হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল বিষয় দুটি: কানেক্টিভিটি বা সংযোগ ব্যবস্থা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের গুরুত্ব স্বীকৃতি। তবে যৌথ ঘোষণায় সরাসরি ভারত বা অন্য দেশের নাম নেই। তবুও কানেক্টিভিটির মাধ্যমে ভারতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় একটি সমাবেশে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের আমীর শফিকুর রহমান বলেন, 'মাতারবাড়ি গভীর বন্দর নিয়ে কোনো লোকচুরি হচ্ছে কিনা, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।'
মাতারবাড়ি কক্সবাজারের একটি ইউনিয়ন যেখানে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আমলে জাপানের সহযোগিতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে জাইকা প্রস্তাব দিয়েছিল কয়লা পরিবহন চ্যানেলের পাশে বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণের। সেটি গ্রহণ করলে গভীর সমুদ্র বন্দর হিসেবে বিকশিত হয়েছে। 'বিগ-বি'র পূর্ণ নাম 'বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ'। এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে ঘিরে জাপানের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা।
যৌথ ঘোষণায় চারটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে: মাতারবাড়ি বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে আগামী পাঁচ বছরে ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ, এবং শান্তি-স্থিতিশীলতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি লাভ। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিবিসি বাংলাকে বলেন, লক্ষ্য বাংলাদেশকে রফতানি হাব হিসেবে গড়ে তোলা।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন এই প্রকল্পে অর্থনৈতিক লাভের সুযোগ আছে। তিনি বলেন, প্রায় ৬০-৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে, যার ৪৮-৫০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের আনে প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলা তৈরি হবে, যা কয়েক দশকে প্রায় আটাশ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
তবে ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিতে বিশ্লেষকরা সতর্কতা জানাচ্ছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল মার্কিন নেতৃত্বাধীন, যেখানে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন এটাকে নিজেকে ঘেরার চেষ্টা হিসেবে দেখে। সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, অর্থনৈতিক মডেল চমৎকার হলেও ভারতের সাথে সংযোগের আগে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদ মোয়াজ্জেম ও সাকিব আলী উভয়েই বাংলাদেশকে চীন, ভারত, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক সন্তুলন রেখে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, মাতারবাড়ি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রস্তাব গ্রহণ বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করে হবে।






