ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুন্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চঞ্চল ঝিনাইদহ শহরের ভূতিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে।
ইনকিলাবের তথ্যমতে, চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি ঠিকাদারি কাজের পাওনা ও টাকা আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঐ বছরের ২৯ জুন রাতে সুলতানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরদিন ৩০ জুন উদয়পুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধারকৃত লাশটি বস্তাবন্দি অবস্থায় ছিল এবং ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি পুলিশ লাইন্সের সামনে সুলতানের একটি গ্রিলের দোকানও ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ জুন চঞ্চল বিশ্বাস ও ইউসিবিএল ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের নামে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে আসামিরা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করে রাখেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আখতার হোসেন মিনা ও আব্দুর রহিম ইনকিলাবকে জানান, সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে। চঞ্চল নিজের নাম পরিবর্তন করে 'সুজা বিশ্বাস' রেখে আশুলিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা যান। গ্রেপ্তারকৃত চঞ্চলকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের তারিখ নিয়ে ঢাকা টাইমস ও দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে ২৮ ও ২৯ অক্টোবরের সামান্য ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।






