চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি (৩০)কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ইত্তেফাকের পাওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাতে খাবার খেয়ে বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন বাপ্পি। অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা রাস্তায় আগে থেকে অস্ত্র নিয়ে ওতপ্রোত অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করে। প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাকিয়ে অন্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। বাপ্পির বুকে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে পড়েন। উদ্ধারে এগিয়ে আসা স্থানীয় যুবক তাফসির আলম শাওনকেও গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখমী করা হয়। দুজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে হামলাকারীরা একাধিক ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান।

পুলিশের দাবি ও গ্রেফতاری

ইত্তেফাকের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। এই পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবেই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে।

ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আরিফ হোসেন (২৯), ফখরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল মান্নান (২৮), মো. ইফতেখার (৩৫), আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) ও নুর আহাম্মদ রনি।

প্রেস কনফারেন্স ও মামলা

সারাবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এই তথ্য যাচাই করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ অক্টোবর রাতে সাদ্দামের অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং বাপ্পির মোটরসাইকেল রোধ করে হামলা চালান।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, নিহত বাপ্পির মা জমিলা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার ছয়জনেরই এই মামলায় গ্রেফতারি দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।