প্রথম আলো অনুসারে, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ ২ জুলাই আপিল মঞ্জুর করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছে। রায়ের ২৯ পৃষ্ঠা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, রায়ের ফলে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা দূর হয়েছে। রায় অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০১৩ সালে জাতীয়কৃত শিক্ষকদের উপরে জ্যেষ্ঠতা পাবেন; ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে জাতীয়কৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তাদের পূর্বে অর্জিত ৫০% কার্যকর চাকরিকালের পর নির্ধারিত হবে।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রণীত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয় এবং এতে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জাতীয়করণ অন্তর্ভুক্ত। বিধিমালার ধারা ৯(১) জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে, যা ২০১৭ সালে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রায়ে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষিত হয়। সরকার ২০ নভেম্বর ২০২২ লিভ‑টু‑আপিল অনুমোদন করে রায় স্থগিত করে এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগ রায় প্রদান করে।
আদালতে সরকারপক্ষের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন; রিট আবেদনকারীদের পক্ষে সালাহ উদ্দিন দেলন, মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার উপস্থিত ছিলেন। রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়কৃত শিক্ষকদের অতীত চাকরিকালকে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সরকারী নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, যদিও বিধি ৪ অনুযায়ী তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল।
এই রায়ের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলে ৫০% কার্যকর চাকরিকাল গণনা করা হবে, যা শিক্ষার স্বার্থ ও সংবিধানের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।
প্রথম আলো অনুযায়ী, রায়ের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে: (১) ২০১২‑এর আগে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতায় উপরে থাকবে; (২) ২০১৩‑এর জাতীয়কৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা পূর্বে অর্জিত ৫০% কার্যকর চাকরিকালের পর নির্ধারিত হবে; (৩) সরকার অতীত চাকরিকালকে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষার স্বার্থ রক্ষা করেছে।






