জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১৮ অক্টোবর (রবিবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) আয়োজিত "জুলাই সনদের এক বছর : প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি" শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠার সমান, এবং সরকার জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
সনদের বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
হাসনাতের মতে, সরকার জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে কাজ করছে। তিনি জানান, বিএনপি সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে এবং সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকটের সম্ভাবনা বাড়বে (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া সভার সঞ্চালনা করেন, আর দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভাপতিত্ব করেন। মঞ্জু উল্লেখ করেন, বিএনপি ৮৪৮ জন কর্মীর শহীদত্ব দাবি করেছে এবং সরকারকে সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করা উচিত (ধারা ঢাকা পোস্ট)। তিনি আরও বলেন, শি খ হাসিনা ও বিএনপি উভয়ই সনদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হবে (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম যোগ দেন যে, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার লিখিতভাবে সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তা পূরণ করা নৈতিক দায়িত্ব (ধারা ঢাকা পোস্ট)। তিনি নির্বাচন পূর্বে কার্ড বিতরণে প্রভাবের আশঙ্কা ও নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা উল্লেখ করেন (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থতা ছাত্র-জনতা গণ‑অভ্যুত্থানের কারণ (ধারা ঢাকা পোস্ট)। তিনি বিএনপির দ্বৈত অবস্থান ও গণভোটের রায় উপেক্ষা করার অভিযোগ করেন (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার বেশিরভাগই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ (ধারা ঢাকা পোস্ট)। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন মূল কাজ হল সনদ বাস্তবায়ন, না করলে সংবিধান সংস্কার সংকট গভীর হবে (ধারা ঢাকা পোস্ট)।
ঢাকা টাইমসের রিপোর্টে একই আলোচনায় হাসনাতের অতিরিক্ত মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে: তিনি বলেছিলেন, ওসি বা এসপি হতে চাইলে তার ভাগিনাকে ঘুষ দিতে হবে (ধারা ঢাকা টাইমস)। এছাড়া তিনি ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন; অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আদেশ জারি করেছিল, যা পরে বিএনপি বাতিল করেছে (ধারা ঢাকা টাইমস)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিএনপি জুলাই সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে (ধারা ঢাকা টাইমস)।
সারাবাংলার প্রতিবেদনে একই আলোচনার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপি গত ছয় মাসে জনগণের সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করেছে এবং সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে (ধারা সারাবাংলা)। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের অর্ধেক ফলাফল মেনে নেয়, অন্য অর্ধেক অস্বীকার করে (ধারা সারাবাংলা)।
উল্লেখযোগ্য যে, মূল ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘিত ধারার সংখ্যা উল্লেখ নেই; অন্যদিকে ঢাকা টাইমস ও সারাবাংলা ১৭টি ধারা লঙ্ঘনের তথ্য প্রদান করেছে। এই পার্থক্যগুলি প্রকাশের সময় যাচাই করা প্রয়োজন (ধারা ঢাকা পোস্ট)।






