মুক্তিযুদ্ধ‑বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা‑৬ সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনা গেন্ডারিয়া রেললাইন‑সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় শনিবার বিকেলে ঘটেছে এবং ইশরাকের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
ভিডিওতে দেখা যায় ইশরাকের সঙ্গে দুইজন সহকারীও অস্ত্র ধারণে রয়েছে এবং তারা কয়েকজনকে তাড়া করে। অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার অভিযোগের পর ইশরাক বিকাল ৩টার দিকে সেখানে গিয়েছিলেন; পুলিশকে জানানো হয়েছিল, তবে তারা দেরি করে পৌঁছায়। তবে ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা (১৯ অক্টোবর) অনুসারে, ঘটনাটি বিকেল ৫টায় ঘটেছে, যা সময়ের পার্থক্য নির্দেশ করে।
অস্ত্রের বৈধতা ও আইনি দৃষ্টিকোণ
ইশরাক বলেন, তার হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ এবং তিনি এটি ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শারিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তি দেন, মনোনয়নপত্রে অস্ত্রের উল্লেখ না করা সম্ভব ছিল কারণ তিনি ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, আর শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদে স্ব-লাইসেন্সযুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন করা যায়, তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে না বলা হয়েছে। ইত্তেফাকের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই শর্তের লঙ্ঘন করা হলে অস্ত্র প্রদর্শন অবৈধ।
পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
ইশরাক দাবি করেন, পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি; তিনি ৩০‑৪০ বার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তবে তারা জনবল ও গাড়ি কম বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পূর্বে অভিযান চলাকালে কয়েকজন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গেন্ডারিয়া থানার অফিসার মনিরুজ্জামান (ইত্তেফাক) ১১ অক্টোবর ৩০০ পুলিশ, ডিবি ও এসআরবি সদস্যসহ একটি বড় অভিযান চালানোর কথা জানান। স্বাধীন টিভি (ইনডিপেনডেন্ট টিভি) অনুসারে, ডিবি গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, যদি অস্ত্র প্রদর্শন আইনের লঙ্ঘন হয় তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া (ইত্তেফাক) বলেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশনা দেওয়া, আর পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়া; মন্ত্রী যদি অস্ত্র হাতে অভিযান চালান, তবে তা অবৈধ হতে পারে। চ্যানেল আই (Channel i) রিপোর্টে ইশরাকের এই মন্তব্যের সঙ্গে তার “আমি তো আর গুলি করি না, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই না” উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য মিডিয়া, যেমন ঢাকা টাইমস, এই ঘটনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছড়া প্রকাশ করেছে, যা ইশরাকের অভিযান ও অস্ত্র বহনের বিষয়কে সমালোচনামূলকভাবে তুলে ধরেছে।
এই তথ্যগুলো ইত্তেফাকের মূল রিপোর্ট এবং উপরে উল্লেখিত অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কভারেজের ভিত্তিতে সংকলিত হয়েছে।






