যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি ও সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ে। ওই দিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা কিছুটা কমেছিল। তবে ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে স্বর্ণের দাম আবার নিম্নমুখী হয়েছে।

ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮১ ডলার ৮৪ সেন্টে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের ফিউচার দর বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০২ ডলার ৭০ সেন্টে। অন্যদিকে ঢাকা টাইমস জানায়, মঙ্গলবার সকালে স্পট গোল্ড শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১২৬ ডলার ৮৪ সেন্টে এবং ডিসেম্বরের ফিউচার দর ৪ হাজার ১৪৬ ডলারে নেমে আসে।

তেলের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ইত্তেফাক ও চ্যানেল আইয়ের খবরে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় দেওয়ার পর তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বাজারে দরপতন ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমায় তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার ইত্তেফাককে জানান, তেলের দরপতন বা মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমলে তা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণকে নিরাপদ ভাবা হলেও সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যায়। ঢাকা টাইমস আরও উল্লেখ করেছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন ফেডের বৈঠকের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার দাবিও বাজারের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব রাখছে।