দেশ রূপান্তর-এর খবর অনুযায়ী, গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে দশটায় কারখানার প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা ও আজকের পত্রিকা।
ছাঁটাইয়ের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল মেটাতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলোতে লে-অফ বা সাময়িক কর্মবিরতি চলছিল।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা, ব্যাংকিং সমস্যা এবং উদ্বৃত্ত জনবলের কারণে প্রশাসনিক ও উৎপাদন খরচ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রম আইন ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত কর্মীদের ছাঁটাই করে আইনসম্মত পাওনা পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়। শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ভবিষ্যতে নিয়োগকালে ছাঁটাই হওয়া দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সকালে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা তালিকার তথ্য দেখতে কারখানার সামনে ভিড় জমান। ১৮ বছর ধরে কাজ করা সুইং অপারেটর ইয়াসমিন বেগম এবং ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত আবেদা বেগম হঠাৎ চাকরি হারিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভের কথা জানান। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বকেয়া ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আইন অনুযায়ী সবার পাওনা পরিশোধ করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।






