প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, জেনারেশন জেড বা জেন-জির মধ্যে একটি নতুন ধরনের সম্পর্কের ধারণা लोकপ্রিয় হচ্ছে, যাকে ‘মেবিলেশনশিপ’ বলা হচ্ছে। ইংরেজি ‘মেবি’ (হয়তো) এবং ‘রিলেশনশিপ’ (সম্পর্ক) শব্দদ্বয় থেকে এ নাম এসেছে।
কী হলো মেবিলেশনশিপ
এই সম্পর্কে দুজনেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বা আকর্ষণ অনুভব করে, নিয়মিত কথা বলে, সময় কাটায় এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগাভাগি করে। কিন্তু সম্পর্কটিকে আনুষ্ঠানিক বা স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়ে কাউকেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই। একজন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে, অন্যজন এখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চায় না। ফলে সম্পর্কটি এক種 অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে থাকে।
কারণ ও প্রেক্ষাপট
রিপোর্টে বলা হয়েছে, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পারিবারিক প্রত্যাশা বা গত সম্পর্কের কষ্টজনক অভিজ্ঞতা—এসব কারণে তরুণ-তরুণীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিতে যেতে দ্বিধা করছেন। বিশেষ করে শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা বা নতুন কর্মজীবনে যাওয়া যুবক-যুবতীরা জীবনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে অনিশ্চিত থাকতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই ধরণের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।
সিচুয়েশনশিপ থেকে পার্থক্য
‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটি গত বেশ কিছু বছর ধরে পরিচিত। সিচুয়েশনশিপে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সম্পর্কের পরিচয় বা প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে। অন্যদিকে মেবিলেশনশিপে ভবিষ্যতে সম্পর্ক পূর্ণতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। বাস্তবে দুটির সীমারেখা সবসময় স্পষ্ট নয়।
সমাধান: খোলামেলা যোগাযোগ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পর্কের শুরুতে সময় নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একজন যখন স্থায়ীতা চায় এবং অন্যজন বারবার সিদ্ধান্ত টালে, তখন মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে খোলামেলা যোগাযোগ—দুজনের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির তৎপরতা এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা—সর্বाधিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাশা না মিললে সেটিও গ্রহণ করা উচিত, কারণ অনিশ্চিততাকে অসীম সময় দেওয়া এবং নিজের অনুভূতি উপেক্ষা করা একই বিষয় নয়।
সূত্র: স্প্রিংগার নেচার, প্রথম আলো

