বাংলা ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকফের ঐতিহাসিক ‘মেইন মার্কেট স্কোয়ারে’ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে একটি ২৫ বছর বয়সী পোলিশ তরুণ সামরিক বাহিনীর ছদ্মবেশ ধারণ করে গাড়ি চালিয়ে প্রবেশ করে এবং সামরিক মানের অস্ত্র দিয়ে পথচারীদের লক্ষ্য করে প্রায় তিন মিনিট ধরে গুলি ছোড়ে।

এই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই ৬ জন নিহত হন এবং ১৫ জন আহত হয়েন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পোলিশ নাগরিক, ১ জন ব্রিটিশ নাগরিক এবং ২ জন অপরিচিত। আহতদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্য এবং ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জার্মানি ও পর্তুগালের পর্যটকরা রয়েছেন।

পুলিশের প্রতিহিংস্র অভিযানে হামলাকারীর গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত করে তাকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। এই গোলাগুলিতে ২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরবর্তীতে হামলাকারীর বাড়ি থেকে আরও ৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের হামলাকারীর নিকটাত্মীয় (বাবা-মা ও ভাই/বোন) হওয়ার ধারণা করা হচ্ছে। এতে মোট মৃত্যুসংখ্যা ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারসিন কিরউইনস্কি জানান, হামলাকারী কোনও সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না, তবে সে কট্টর জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি মতাদর্শে চরমভাবে উদ্বুদ্ধ ছিলেন।

হামলার পর ক্রাকফ শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ওয়ারশাওতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।