আন্তর্জাতিক জ্বালানি দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পের ব্যয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রা চাপ, মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ভর্তুকির প্রয়োজন বৃদ্ধি করে। এই বিষয়টি ঢাকা পোস্টের মতে, আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বড় সামষ্টিক ঝুঁকি তৈরি করে।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের পর ২০২২ সাল থেকে গ্যাস সরবরাহের উৎস বহুমুখিকরণ, জ্বালানি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। ইউরোপীয় কমিশনার ভালদিস দোমব্রোভস্কিসের মতে, নরওয়ে এখন সবচেয়ে বড় পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরেও ইউরোপের অর্থনীতি বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে এবং চলতি বছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

ইমএফের থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি টু প্রসপারিটি’ সেমিনারে দোমব্রোভস্কিস, বি.সিজি-র অপর্ণা ভরদ্বাজ এবং ইবিআরডি-র মার্ক বোম্যান অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারটি ইমএফের ইউরোপীয় বিভাগের পরিচালক মাতেউশ শ্চুরেক পরিচালনা করেন। আলোচনায় জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি ও জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয়। কাতার থেকে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ, তাই কোনো সরবরাহকারী দেশে উৎপাদন বা রপ্তানি ব্যাহত হলে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন হয়, যা উচ্চ দামের সঙ্গে যুক্ত। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি হলে বিদ্যুৎ খরচ, সরকারি ভর্তুকি, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ে।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কয়েকটি শিক্ষা পেতে পারে: (১) গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহের উৎস বহুমুখিকরণ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেটের সমন্বয়; (২) দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন সৌরশক্তি) ও দক্ষতা বৃদ্ধি; (৩) মূল্যবৃদ্ধির সময়ে আর্থিক সক্ষমতা তৈরি, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা; (৪) জ্বালানি নিরাপত্তাকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সংযুক্ত করা।

ইমএফের সাইড ইভেন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বা বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি করলে নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বাংলাদেশকে সেই পণ্যগুলো চিহ্নিত করতে হবে যেগুলোর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেই অনুযায়ী নীতি ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

এই বিশ্লেষণ ঢাকা পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।