আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আয় ও দুর্বল আর্থিক খাতের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপের দিকে ইঙ্গিত করে, এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে পরামর্শ দিয়েছে।

আজকের পত্রিকা অনুসারে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে, বাংলাদেশে $৪৫০‑৫০০ কোটি (৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার) নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন যে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, তবে ঋণ গ্রহণে শর্ত পূরণ করা আবশ্যক।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন‑চন্দ্র উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতি‑এ চ্যালেঞ্জের মুখে। গত সেপ্টেম্বরে দেশীয় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। সংস্থা আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাজস্ব‑জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি, তা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার ও কর আহরণ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলায় পুনঃমূলধনীকরণ ও বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল প্রয়োজন বলে আইএমএফ জোর দেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সমঝোতা চলছে এবং ইতিমধ্যে কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাজেট‑পরবর্তী অগ্রগতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও আইএমএফ বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, এবং সরকার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় সহযোগীর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করবে।