ঢাকা পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা সিআইডি থেকে তিন দিনের রিমান্ডের অনুমোদন চেয়েছেন। আবেদনটি সিআইডি উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) করেছেন এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে শোনার কথা।

সারাবাংলা ও অন্যান্য আউটলেটের তথ্য অনুসারে, আদালত শেষ পর্যন্ত এক দিনের রিমান্ডই মঞ্জুর করেছে। "দেশ রূপান্তর", "বাংলা ট্রিবিউন" এবং "ইত্তেফাক" সবই একই বিষয় উল্লেখ করেছে যে, যদিও সিআইডি তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে, আদালত এক দিনের রিমান্ডই অনুমোদন করেছে।

অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি

দিলীপ আগরওয়ালাকে ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় বনানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার গ্রেপ্তার রাবের মাধ্যমে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ করা হয়েছিল, পরের দিন আদালতে হাজির হয়ে একটি হত্যামামলায়ও তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। এরপর বিভিন্ন হত্যামামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার দেখানো হয়; তার আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করে এবং ১ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মামলাটি গত বছরের (২০২৫) নভেম্বরে গুলশান থানায় সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখের দ্বারা দায়ের করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে যে, ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়ে অবৈধ স্বর্ণ‑হীরা লেনদেন ঘটেছে।

সিআইডি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রায় ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সা মূল্যের স্বর্ণ‑বার, স্বর্ণালংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অলঙ্কার আমদানি করেছে। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে মোট ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও হীরা (ডায়মন্ড) ক্রয়, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে, যার উৎস ও বিক্রেতার বৈধ নথিপত্র প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সিআইডি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মাধ্যমে দিলীপ আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন চালিয়ে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উপার্জন করেছেন।

এই তথ্যগুলো ঢাকা পোস্টের পাশাপাশি সারাবাংলা, দেশ রূপান্তর, বাংলা ট্রিবিউন এবং ইত্তেফাকের প্রতিবেদন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে; রিমান্ডের দৈর্ঘ্য ও আমদানি করা পণ্যের বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।