বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে সরকারপ্রধানের নিয়োগে রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগের অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়েছে। সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটি বর্তমানে উচ্চকক্ষ, স্পিকার ও সরকার‑বিরোধী দলের সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন গঠন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ২৪ অক্টোবর (শনিবার) কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত নবম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কর্মপরিধি ও অন্যান্য বিষয়ের উপর বিশদ আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চকক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ সৃষ্টি করে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা, অথবা সরকার‑বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকারের মাধ্যমে গঠন করার প্রস্তাবগুলোও বিবেচনা করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের জন্য পাঁচ সদস্যের প্যানেল গঠনের কথা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত। প্যানেল ঐকমত্যে না পৌঁছালে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের যুক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে, বিএনপি এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগের অংশগ্রহণের বিরোধ প্রকাশ করেছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের মতে, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য, তবে বর্তমান সময়ে কোন পদ্ধতিতে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি যোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত আলোচনা করা হতে পারে।
প্রথম আলো ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুসারে, এনসিপি (জাতীয় সংহতি পার্টি)ের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলে ধরেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে অবৈধ ক্ষমতা দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও একই রকমের হুমকি নেই বলে কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া, তিনি আইনশৃঙ্খলা অবনতির, মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি দামের বৃদ্ধি এবং হিলস অঞ্চলে অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, সরকারকে এসব বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ তিনটি সংসদ (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) অবৈধ ঘোষণা করেছে, যেখানে বিএনপি শেহরী হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে দাবি করে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে আইনি ভিত্তি এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাসে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা‑২ উপনির্বাচনের পর ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত, এবং ২০০১, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ইত্যাদি সময়ে বিভিন্ন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বর্তমান আলোচনায় সরকারপ্রধানের নিয়োগ পদ্ধতি, মেয়াদ এবং ক্ষমতা সীমা সংক্রান্ত স্পষ্ট সমাধান চাওয়া হচ্ছে।





