চ্যানেল ২৪ অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সংবিধান সংশোধন আলোচনায় প্রধান বিষয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য স্থাপন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়া সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই সংস্কার হিসেবে গণ্য হতে পারে, তবে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মন্তব্যগুলো শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় করা হয়। বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি সকলকে মত প্রকাশের সুযোগ দিয়েছেন এবং আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। সমকাল আরও জানায় যে, বৈঠকে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটিগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের সদস্যদের কিছু কমিটির প্রধান হিসেবে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনায়, সমকালের রিপোর্টে ড. আসিফ নজরুল সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাদ দেওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং স্বচ্ছ ও কার্যকর বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী ফয়েজুল হাকিমের মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি সারা দেশে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি জনগণের সংগঠন গড়ে তুলে রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের ধারাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এই বিবৃতি সরাসরি সংবিধান সংশোধন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি জনমত ও প্রত্যাশার একটি সমান্তরাল দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।