সোমবার, ২৬ অক্টোবর, বিকেল ৩টায় তেজগাঁওয়ের শাপলা হলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এই তথ্য দেশ রূপান্তর অনুসারে।

মীর শাহে আলম পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে জোর দিয়ে বলেন। তিনি জানিয়ে দেন, সরকারি বাসস্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হবে। এছাড়া, সরকারি কর্মচারীরা যদি নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে না পারেন, তবে তাদের সরকারি বাসা থাকার যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে সচেষ্ট এবং স্বচক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারের অবস্থান পরিদর্শন করেছেন। তবে তিনি বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতালে এডিস মশার লার্ভা ও চরম অবহেলার চিত্র পেয়েছেন। প্রথম আলো প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, প্রধানমন্ত্রী সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থান পরিদর্শন করে আজিমপুরে অপরিচ্ছন্নতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন; এই তথ্য মূল সূত্রে উল্লেখ নেই এবং তাই আলাদা সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শহরের সৌন্দর্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন

মীর শাহে আলম জানান, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা কাজ রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সমন্বয়ে চলছে। পাশাপাশি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড‑ওয়াল নির্মাণ ও নেটিং কাজ চলছে। প্লাস্টিক ও লোহার ডাস্টবিন চুরি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন ডাস্টবিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; এই বিনগুলো দুই সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ক্রমে স্থাপন করবে।

পরিবীক্ষণ টিম ও কমিটির গঠন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ২০টি জোনে ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে; প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ১০টি করে কমিটি কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব জোনাল কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই ২০টি কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

মীর শাহে আলম আশাব্যক্ত করেন, টিমগুলোর সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা থাকলে এক‑দুই মাসের মধ্যে ঢাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।

উপরের সব তথ্য দেশ রূপান্তর অনুসারে, এবং অতিরিক্ত তথ্য প্রথম আলো, সারাবাংলা ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।