ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরান‑সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের গুলি চালানো হয়েছে। দেশ রূপান্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছে, তবে ইনকিলাব ও আলোকিত বাংলাদেশ সূত্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দুইশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে এবং ১৪ জন এখনও নিখোঁজ।

শাবওয়া প্রদেশের গভর্নর আওয়াদ আল‑ওয়াজির জানান, হামলাটি আল‑আলাম প্রশিক্ষণ শিবিরে ঘটেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে হুথি দল তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রক্তাক্ত দেহ মাটিতে ছড়িয়ে থাকা দৃশ্য দেখা যায়।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্স-এ প্রকাশ করেন যে তাদের বাহিনী শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং দাবি করেন শিবিরটি সৌদি বাহিনী পরিচালনা করছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

শাবওয়া প্রদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, যেখানে দেশের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্প অবস্থিত। সরকারী বাহিনী চলতি মাসে হুথি নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য অভিযান চালু করেছে এবং বাব আল‑মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী কিছু অঞ্চল পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, হুথি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত শেষ বড় শহর তাইজকে অবরোধ করে রেখেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আরামকোকে হুথি লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর খবরও পাওয়া গেছে। এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর যুদ্ধের একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইতিমধ্যে দেশকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে নিয়ে এসেছে; নিরাপত্তা অবনতি ও সংঘাতের বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিতে পারে, এ বিষয়ে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে। (তথ্য: দেশ রূপান্তর)