ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ান ও জাপান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বাতাস বয়ে যাওয়া এই ঝড়ের কারণে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) সতর্কবার্তা জারি করেছে।
বৃহস্পতিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ছিল। এর বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে এবং এর প্রভাবে তাইওয়ানের বড় অংশে দুর্দশামূলক আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন যে ঝড়টির প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী থাকবে।
উপকূলে ছয় মিটারের বেশি উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। টাইফুনের কারণে বৃহস্পতিবার তাইওয়ানে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ রুটের। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো তথ্য নেই।
জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের পশ্চিমতম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনি ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে রয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস, এএনএ ও স্কাইমার্ক বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার ফলে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
চাম্পির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া 'কিন সোর্ড'-এও। ঝুঁকি বিবেচনায় মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজিত এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রায় ৫৬ হাজার সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন, পাশাপাশি ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও পাঁচটি দেশের সামরিক বাহিনী এতে যুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।






