চ্যানেল আই অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি ১৮ অক্টোবর তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’‑এ লিখে জানান, রাশিয়া‑ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে শান্তি আলোচনায় তিনি জড়িত এবং রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দিতে চান না।

একই দিনে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এনবিসি ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে সতর্ক করেন। তিনি পুতিনকে ‘আগ্রাসনকারী, দখলকারী, সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের জেলেনস্কি‑বিরোধী মন্তব্য

ট্রাম্প জেলেনস্কির দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে, তবে জেলেনস্কির এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি যুক্তি দেন, ইউরোপের বিশাল আর্থিক সহায়তা সত্ত্বেও জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।

৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ফেব্রুয়ারি শেষে যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে বাড়া জ্বালানি দামের মোকাবিলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

চ্যানেল ২৪‑এর দৃষ্টিভঙ্গি

চ্যানেল ২৪‑এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণ হল বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব। রুবিও উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় রয়েছে।

জেলেনস্কি রবিবার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথোপকথনের কথা জানিয়ে বলেন, এই আলোচনাগুলি কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সহজ করতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে।