সৌদি আরবে বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে চ্যানেল আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনেরা। তারা নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। বার্তা২৪-এর এক প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিহত নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন নজরুল। এসএসসি পাস করার পর পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ২০২২ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রবাসে যাওয়ার সাত মাস পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে তিনি কারাগার থেকে ফোন করে বন্দি থাকার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি।

পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা তারা গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন। এর আগে ১১ অক্টোবর রোববার নজরুলের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথা হয়েছিল। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে স্বজনদের কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নজরুল কোনো আইনি সহায়তা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তার মা-বাবা।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর শোক সহ্য করতে না পেরে তার ৬৫ বছর বয়সী ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাঈদ জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে মরদেহ দেশে এলে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।