বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ রাত প্রায় ৮ টায় রুমিন ফারহানা সরাইল থানা ওসির (মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া) অফিসে গিয়ে দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ প্রকাশ করেন।

মিটিং চলাকালে ফারহানা ওসিকে ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাকে মাটি, বালি ও ইটভাটার ব্যবসা থেকে অর্থ গ্রহণ, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে খাবার গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে, বলেন তিনি কোনো ব্যক্তিগত দাওয়াতে যান না এবং শুধুমাত্র সরকারি ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ফারহানা জানান, তিনি একাধিকবার নিরাপত্তা চেয়েছেন; বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তবে সরাইলে তা পাননি। তিনি যুক্তি দেন যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তা স্থানীয় পর্যায়ে প্রদান করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওসি তার ফোনে সাড়া দেন না, ফলে সাধারণ মানুষই তাকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রদান করছে।

ওসি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফারহানা এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে থানায় এসে হইচই সৃষ্টি করেছেন এবং তার কার্যালয়ে কয়েকশ লোক ঢুকে অবমাননাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, সমর্থকরা থানা কক্ষে তাকে বাধা দিয়ে বাইরে মিছিল করেছেন; সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংগঠনের কিছু লোক থাকতে পারে, তবে তার পরিচয় নিশ্চিত নয়।

দু'পক্ষই একে অপরের ওপর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। ফারহানা মাটি কাটা, বালি ও ইটভাটার ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন; ওসি এসবকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং মামলার আসামি ছাড়ার জন্য টাকা দেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন।

ঢাকা টাইমস, ইত্তেফাক ও দেশ রূপান্তরসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও একই সময়ে (বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা) এবং একই স্থানে (সরাইল থানা) ঘটনার ভিডিও সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূত্রগুলোও ফারহানার সমর্থকদের ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় এবং এলাকায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় বলে জানায়।

ওসি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজার সময় থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর ছিল, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আলাদা বিষয় এবং তা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে আবেদন করলে ব্যবস্থা করা হবে। তিনি ফারহানার সমর্থকদের কথোপকথন রেকর্ড করার নির্দেশও দেন।