আলোকিত বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

১৯৯৪ সালের ৩০ মে মিসেস তাশিয়া খানম ৩০,৩৪৭টি শেয়ার সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইনের কাছে বিক্রি করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১১ সালের ৮ মে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দেন যে শেয়ার হস্তান্তরটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং তাশিয়া খানমের স্বাক্ষর জালিয়াতি নয়। এই রায় আপিল ও রিভিউ বিভাগে চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে।

আপিল বিভাগের ৬ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ ২৭ জুন ২০১১ তারিখে শেষ হওয়ার পরেও কোনো নতুন স্থগিতাদেশ না থাকা সত্ত্বেও, মঞ্জুরুর রহমানের সভাপতিত্বে ১৩ জুলাই ২০১১ তারিখে পূবালী ব্যাংকের ৮৩০তম বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেআইনিভাবে সমস্ত বোনাস শেয়ার ও লভ্যাংশ তাশিয়া খানমের নামে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের চরম অবমাননা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন আদালত অবমাননার মামলা (Contempt Petition No. ৩৮৪/২০২৬) দায়ের করেন। গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান এবং বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের বেঞ্চ পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, মর্মে একটি রুল জারি করেন। আবেদনকারী এখন ২,৯৬,২০,৩৯৭টি শেয়ার রেজিস্ট্রেশন এবং ৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ ও সুদ পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

শুধু পূবালী ব্যাংকই নয়, মঞ্জুরুর রহমান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সেও বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) নির্দেশে একনাবিন (ACNABIN) অডিট ফার্মের প্রতিবেদনে ডেল্টা লাইফে ৩ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার জালিয়াতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র উঠে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মঞ্জুরুর রহমান ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে ৬৩৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে।

আরও জানা গেছে, ডেল্টা লাইফের শেয়ারহোল্ডার ও পলিসি গ্রাহক মানিক রতন চাকমা বনানী থানায় মামলা করলে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি মেট্রোপলিটন আদালতে রিভিশন দায়ের করেন। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আদালত ওই রিভিশন মামলাটি মঞ্জুর করেন এবং মামলার তদন্তভার দুদকে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মতে, হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ এবং রিভিউ কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পরও শেয়ারের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই (Res Judicata)।