জনকণ্ঠের অনুসারে, ফ্রান্সে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা দেখা দিয়েছে। প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেইসহ বেশ কয়েক শহরে প্রতিবাদকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং অন্তত ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ৩,০০০ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসন পারিসসহ অন্যান্য শহরে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আংশিক কার্ফু আরোপ করেছে এবং বেশ কিছু পর্যটনকেন্দ্র, যেমন বাস্তিল স্কয়ারে, সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু (Sebastien Lecornu) প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ (Laurent Nunez) সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে চাপের মুখে। নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন, তবে ম্যাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করে গোয়েন্দা তৎপরতা ও পুলিশের কৌশল পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। সরকার অতি বামপন্থি গোষ্ঠী ও লুটেরদের দোষারোপের পাশাপাশি, ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্ডন বারদেলা নিরাপত্তা ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক মন্তব্য ও প্রতিবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে, শরণার্থী ও জঙ্গিরা দায়ী বলে দাবি করেন। ম্যাক্রোঁ ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এই পরিস্থিতি ব্যবহার করার অভিযোগ করেন।
ইতালির মিলান ও রোমে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ট্রাক চালক, কৃষক ও তরুণরা অংশ নেয়; ইতালির সূত্রে ৩৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Georgia Meloni) ভাঙচুর ও লুটপাটকে ‘অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন
প্রথম আলো অনুযায়ী, বিক্ষোভের আগের দিন পারিসের কাছাকাছি গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত এবং চারজন আহত হন; সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলির ঘটনা ‘ট্রাপেস’ এলাকায় ঘটেছে এবং তা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই গুলির ঘটনা মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, তাই তা আলাদা ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
দেশ রূপান্তর প্রকাশ করেছে যে ফ্রান্সের বিক্ষোবে অনুপ্রাণিত হয়ে জার্মানিতে ‘Gen Z Rejelt’ নামের যুব সংগঠন ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন রাতে বার্লিন, কোলোন, হামবুর্গ ও মিউনিখসহ ২১টি শহরে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে।
ঢাকা পোস্টের শিরোনাম ‘সমাধানের আশায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসছেন ম্যাক্রোঁ’ উল্লেখ করা হলেও মূল টেক্সটে বিশদ তথ্য নেই।
ফ্রান্সের ভারতীয় দূতাবাস পারিসে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।






