দেশ রূপান্তর অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলসহ জাপানে সফর করবেন। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি গত রাত ১২:১০ টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টোকিও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ৯:২৫ টায় পৌঁছাবে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সরাসরি টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে থাকবেন, যেখানে তিনি চার দিনের সফর কাটাবেন।

প্রতিনিধিদলে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ‑জ্বালানি‑খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক‑টেলিযোগাযোগ‑তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।

সফরের মূল বিষয়বস্তু

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানো, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য‑অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন, জাপান‑বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং LNG টার্মিনাল, পাওয়ার প্ল্যান্ট, পারমাণবিক সদর দপ্তর ও নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করবেন। দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে, যেখানে চার‑পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনি এমদাদ এবং প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রুদ্র উভয়ই সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেবেন বলে মন্তব্য করেছেন।

ইতিহাসে, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান (১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে) এবং খালেদা জিয়া (১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে) দুবার জাপান সফর করেছেন। তবে তারেক রহমানের জাপান সফর প্রথমবারের মতো।

স্বাধীনতার পর ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং ১১ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, একই দিনে জাপান ঢাকা দূতাবাস খুলে। (সূত্র: দেশ রূপান্তর)