আজকের পত্রিকা অনুসারে, ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোবে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা অব্যাহত থাকায় প্যারিস, লিল, নিসসহ কয়েক শহরের কিছু অংশে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্যারিসে সন্ধ্যা ৮টা থেকে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্র চত্বর (Place de la République) ও লে আলে এলাকায় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে; এই নিষেধাজ্ঞা মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বজায় থাকবে।

লিল, দুয়ে, ভাতিগ্নি ও দানাঁ শহরে স্থানীয় মেয়রদের সম্মতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আগামী দুই দিনের জন্য রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। নিসের মেয়র এরিক সিওত্তি অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে কেন্দ্রস্থলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ চালুর আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মার্সেইতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু প্যারিসে সর্বাত্মক কারফিউ নাকচ করলেও আংশিক ও স্থানীয় কারফিউকে উপযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তার সংকল্প অবিচল থাকবে বলে জোর দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার থেকে কর্মী ছাঁটাই রোধে বিশেষ ব্যবস্থা (FARLO) চালু করার কথা জানিয়েছেন।

ফরাসি ট্রেড ইউনিয়নগুলো ৫ নভেম্বর নতুন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফরাসি বাণিক ও খুচরা বিক্রেতা ফেডারেশন জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে প্রায় তিন হাজার দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও কর ছাড়ের দাবি তুলেছে। ডিজিটাল মন্ত্রী আন ল্য এনাফ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে লুট করা পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে এবং বিক্রেতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিক্ষোভকারী মারা গেছেন এবং প্রায় ১,০০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে।

চ্যানেল আই অনুসারে, প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক ও লে আলে এলাকায় রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে এবং এই নিয়মগুলো মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বজায় থাকবে। উভয় সূত্রের তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চ্যানেল আইতে কারফিউ আরোপের সুনির্দিষ্ট তারিখ হিসেবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা নিয়ে বিক্ষোভের পটভূমি রয়েছে; প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এছাড়াও, ফিনল্যান্ড রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মোকাবিলায় ১০ লাখ অ্যান্টি‑পারসোনেল মাইন কেনার পরিকল্পনা করছে এবং ইউক্রেনের একটি বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।