ইত্তেফাকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পাঙাশ ও তেলাপিয়া এখন গৃহস্থের জন্য আর ‘গরিবের মাছ’ নয়; দাম আকাশচুম্বী হয়ে গৃহস্থের দৈনিক খাবারের মাছের অংশ কমে যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পাঙাশের দাম আকারভেদে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে, যেখানে দুই‑তিন কেজি ওজনের পাঙাশের দাম ২২০‑২৫০ টাকা এবং বড় আকারে আরও বেশি। কয়েক বছর আগে একই সাইজের পাঙাশ ১২০‑১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। তেলাপিয়ার দামও বাড়ছে; মাঝারি আকারের তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ টাকা, এক কেজি‑এর বেশি বড় তেলাপিয়া ২৪০‑২৫০ টাকার মধ্যে। ২০২২ সালে তেলাপিয়ার দাম ১৪০ টাকার কাছাকাছি ছিল, বর্তমান দামে ২৫‑৫৭% বৃদ্ধি দেখা গেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩‑২৪ অর্থবছরে দেশে মোট ৪,৫০০ টন পাঙাশ ও ৩,৫৪,০০০ টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়েছে; দুই প্রজাতির সম্মিলিত উৎপাদন ৭,৫৯,০০০ টন। ময়মনসিংহ, যশোর, বগুড়া, রাজশাহী ও কুমিল্লা ইত্যাদি জেলা এই চাষে শীর্ষে রয়েছে। বাণিজ্যিক পুকুরে আটটি প্রজাতি চাষ করা হয়, যার মধ্যে পাঙাশ ও তেলাপিয়া সর্বোচ্চ উৎপাদন করে।

বাড্ডা বাজারের বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও এখন তারা অর্ধেক পরিমাণে মাছ কিনছেন; পূর্বে এক‑দুই কেজি নিতেন, এখন আধা কেজি‑এক কেজি নেন। একই সময়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আবুল কালাম উল্লেখ করেন, মাছের খাবারের (ফিড) মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ (ট্রাক ভাড়া ১৫‑১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি) উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়িয়ে দামের উত্থান ঘটিয়েছে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মাছের গ্রহণ কমে যাবে, যা জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি তৈরি করতে পারে। তারা মাছের খাবারের দাম কমানো এবং সাশ্রয়ী খাদ্য গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।