জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলা ট্রিবিউন প্রকাশিত একটি কলামে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন (আরএসএফ) এর মাসিক প্রতিবেদনের হवाले জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৭৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আরএসএফের পরিসংখ্যান
আরএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ৪৭২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন, জুলাইয়ে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন, আগস্টে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে আহত हुए ৬৭৪ জন। এই মहीনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ জন মারা যান। ঈদুল আজহার সময় (২১ মে–২ জুন, ১৩ দিন) ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছিলেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। জুনে মোট নিহতের ৩০.৫৯%, জুলাইয়ে ৩৩.১৭%, আগস্টে ৩৬.৫৯% এবং সেপ্টেম্বরে ৩২.৮৬% মৃত্যু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটেছে। সেপ্টেম্বরে ১০৬ জন পথচারী নিহত হন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
ঢাকার চিত্র
আরএসএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় ১ হাজার ৩৮৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটছে।
দিবস পালন ও বিআরটিএর উদ্যোগ
দেশ রূপান্তর এবং ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪-এর উদ্যোগে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দরের সামনের সড়ক এবং কুড়িল এলাকায় রোড শো আয়োজন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা ছয় মাসের বেশি ধরে না হওয়া উদ্বেগজনক। বিআরটিএ, পুলিশ, ডিটিসিএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন থাকলেও কার্যকর নেতৃত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে।
পথচারীদের ও চালকদের দায়িত্ব
কলামে লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর মনে করেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ পারাপথ, গতিসীমা নির্ধারণ এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি। চালকদের ন্যায্য মজুরি, যুক্তিসঙ্গত কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। পথচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
আরএসএফ জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা, বিআরটিএ-বিআরটিসি-ডিটিসিএর মধ্যে সমন্বয়, রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ, সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতায় পর্যাপ্ত বাজেট এবং ঢাকায় রুট যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালু করার প্রস্তাব রেখেছে। একই সাথে একটি সমন্বিত, নির্ভরযোগ্য ও নিয়মিত হালনাগাদ করা জাতীয় দুর্ঘটনা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে।






